আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং সেগুলোর মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য কিছু নেই। জার্মানিতে ট্রেড ব্যালেন্স ও সেইসাথে আমদানি ও রপ্তানি সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে সাপ্তাহিক জবলেস ক্লেইমস সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এই প্রতিবেদনগুলোর গুরুত্ব খুবই কম এবং এগুলোর প্রভাবে মার্কেটে খুব একটা মুভমেন্ট হওয়ার (এমনকি 15 পিপসের মতো সামান্য মুভমেন্টেরও) সম্ভাবনা নেই। তাই আজ আবারও মূলত টেকনিক্যাল চার্টভিত্তিক ট্রেডিংয়ের ওপরই নির্ভর করতে হবে। ইউরোর দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য গত দুই সপ্তাহ ধরে একটি সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যে ওঠানামা করছে।
বৃহস্পতিবারের উল্লেখযোগ্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফিলিপ লেন এবং ফেডারেল রিজার্ভের ভোটিং সদস্য আলবার্তো মুসালেমের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে। সুদের হার সংক্রান্ত বিষয়ে ফিলিপ লেন হয়তো কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে পারেন, কারণ সেপ্টেম্বরে ইউরোজোনে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে 3.8%-এ পৌঁছেছে—যা ইসিবি-র লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দ্বিগুণ। তবে, হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত বা এ বছর ইসিবি-র তৃতীয় দফায় সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ইউরোর দর বৃদ্ধিতে খুব একটা সহায়তা করবে না বলেই মনে হচ্ছে; কারণ ট্রেডাররা এর আগেও ইসিবির কঠোর আর্থিক নীতিমালার বিষয়টিকে দুবার উপেক্ষা করেছে। ইসিবির কঠোর অবস্থান কিংবা ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তা—কোনোটিই ইউরোর মূল্য বাড়াতে পারছে না।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও বেশ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা হচ্ছে না, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে যাচ্ছেন যে মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের পর একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। ট্রাম্প বারবার এ কথাও বলছেন যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার সংঘাত খুব শীঘ্রই শেষ হয়ে যেতে পারে—এমন কথা তিনি প্রায় দুই বছর ধরেই বলে আসছেন—তাই ট্রেডাররা তাঁর এসব বক্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। সপ্তাহান্তে জানা গেছে যে ইয়েমেন দেশটির হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে এবং হুথিরাও সৌদি আরবের তেল ও গ্যাস স্থাপনা ও ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। ফলে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।
চলতি সপ্তাহের চতুর্থ দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মন্থর দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে, কারণ এই নিম্নমুখী প্রবণতা এখন আর মৌলিক, ভূ-রাজনৈতিক বা সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করছে না । আজ ইউরো 1.1198–1.1218 এরিয়ায় এবং পাউন্ড 1.3175–1.3180 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে। আজ মার্কেটে স্বল্পমাত্রার ভোলাটালিটি বা অস্থিরতা দেখা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।