আরও দেখুন
বুধবার কোনো সুনির্দিষ্ট স্থানীয় কারণ ছাড়াই GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের দরপতন ঘটেছে। তবে ইউরোর বিপরীতে পাউন্ডের মূল্য গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে মূলত সাইডওয়েজ রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট প্রদর্শন করছে। অর্থাৎ, ইউরোর তুলনায় পাউন্ডের মূল্য অধিক স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করছে। গতকাল তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একমাত্র বিষয় হিসেবে ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশিত হয়েছে; তবে প্রত্যাশা অনুযায়ীই, এই কার্যবিবরণীর প্রেক্ষিতে এই কারেন্সি পেয়ারের ওপর কোনো প্রভাব বা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। মনে রাখা প্রয়োজন যে, ফেডের বৈঠক কার্যবিবরণী মূলত একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র; বৈঠকের তিন সপ্তাহ পর এটি প্রকাশিত হওয়ায় এর তাৎক্ষণিক গুরুত্ব অনেকটাই কমে যায়। গত তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যা মার্কেটে বিদ্যমান হকিশ বা কঠোর মুদ্রানীতি প্রণয়নের সম্ভাবনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে; যেহেতু এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত থাকা সম্ভব নয়, তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই কার্যবিবরণীর প্রাসঙ্গিকতা সীমিত। কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই আবারও মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে—গত এক মাসে ট্রেডাররা এমন পরিস্থিতির সাথে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।
বুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। এশিয়ান সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.3259–1.3267 এরিয়া ব্রেক করে এবং দিনের বাকি সময় নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় ছিল। ইউরোপীয় সেশন শুরুর সময় ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারতেন, কারণ তখন পর্যন্ত এই পেয়ারের মূল্য সিগন্যাল পয়েন্ট থেকে খুব বেশি দূরে সরে যায়নি। দিনশেষে প্রায় 40 পিপস মুনাফা অর্জন করা সম্ভব ছিল।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত, ফলে মার্কিন ডলারের সার্বিক মৌলিক প্রেক্ষাপটের উন্নতি ঘটেছে। তবে তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ট্রেডাররা শুধুমাত্র মার্কিন ডলার ক্রয় করেই যাচ্ছে। অবশ্য ফেডের আর্থিক নীতিমালাই মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির একমাত্র কারণ কিনা এ বিষয়ে আমাদের ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। তাই, মার্কেটে পরিলক্ষিত বর্তমান মুভমেন্টকে আমরা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মনে করছি।
বুধবার এই পেয়ারের মূল্য 1.3175–1.3180 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3096–1.3107-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3175–1.3180 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3259–1.3267-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3175–1.3180, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট নির্ধারিত নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রে কেবল সাপ্তাহিক জবলেস ক্লেইমস সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে—যেটি সাধারণত মার্কেটে খুব একটা প্রভাব ফেলে না। তাই, আজ মার্কেটে মূলত টেকনিক্যাল মুভমেন্ট এবং স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।