আরও দেখুন
বুধবার আবারও EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়—আর এই প্রবণতা শুরু হওয়ার পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট বা স্পষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া কঠিন। অবশ্য এক্ষেত্রে ফ্রান্সের বাজেট সংকট, বিশ্বজুড়ে ও মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার বৃদ্ধি এবং মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর অবস্থান বজায় রাখার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। কিন্তু এই যুক্তিগুলো এখন আর মার্কিন ডলারের ওপর প্রবল আস্থাশীল ব্যক্তিদেরও সন্তুষ্ট করতে পারছে না। যুক্তরাষ্ট্রে বাজেট বা রাজস্ব-সংক্রান্ত নিজস্ব কিছু সমস্যা থাকলেও তা মার্কিন ডলারের ওপর কোনো প্রভাব ফেলছে বলে মনে হয় না। ফেডারেল রিজার্ভ আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করলেও, ট্রেডারদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেই গতি বজায় নাও থাকতে পারে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছে, অথচ ট্রেডাররা বিষয়টি অনেকটাই উপেক্ষা করে যাচ্ছে। পুরো ২০২৬ সাল জুড়েই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজমান ছিল। তাই মার্কিন ডলারের এই নতুন উত্থানের পেছনে যদি কোনো কারণ থেকেও থাকে, তবে তা ছিল কেবলই আনুষ্ঠানিক বা নামমাত্র—মূলত ট্রেডাররা মার্কিন ডলার কেনার যেকোনো সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে এবং ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি ঘটাতে পারে এমন বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করছে।
বুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। রাতের বেলা এই পেয়ারের মূল্য তৃতীয়বারের মতো 1.1267–1.1275 এরিয়া থেকে বাউন্স করে এবং ইউরোপীয় সেশনের সময় 1.1198–1.1218 জোন ব্রেক করে নিচে নেমে যায়। তাই, আমরা যেমনটা উল্লেখ করেছিলাম, নতুন ট্রেডাররা চাইলে মঙ্গলবারই শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারতেন। বুধবার সেই পজিশনগুলো থেকে মুনাফা তুলে নেওয়া যেত, অথবা ট্রেডাররা চাইলে পজিশনগুলো হোল্ড করে রেখে 1.1132–1.1140 এরিয়ার দিকে আরও দরপতনের প্রত্যাশা করতে পারতেন।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায়, হঠাৎ করেই ইউরোর ব্যাপক দরপতন ঘটবে—এমনটা আমরা মনে করছি না; তবে ট্রেডাররা এখনও মার্কিন ডলার ক্রয় করে যাচ্ছে এবং যেকোনো ইভেন্ট ও প্রতিবেদন উপেক্ষা করে চলেছে।
বৃহস্পতিবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়ার নিচে দুইবার স্থিতিশীল অবস্থান গ্রহণ করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন বজায় রাখতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1132–1.1140-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়া নিশ্চিতভাবে 1.1198–1.1218 এরিয়ার উপর স্থিতিশীল হলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1267–1.1275-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1132–1.1140, 1.1198–1.1218, 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665। বৃহস্পতিবার ইউরোজোনে তেমন কোনো অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রে শুধুমাত্র সাপ্তাহিক জবলেস ক্লেইমস সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। আমরা আশা করছি না যে এই প্রতিবেদনের প্রভাবে মার্কেটে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। আবারও মূলত টেকনিক্যাল বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করেই দৈনিক ট্রেডিং পরিচালিত হবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।