আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নে দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে এই সূচকটি খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে আজ মাঝারি মাত্রার গুরুত্বসম্পন্ন কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে—যেমন রিটেইল সেলস এবং মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কনজিউমার সেন্টিমেন্ট সূচক। যদি এই প্রতিবেদনগুলোর প্রকৃত ফলাফল পূর্বাভাসের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হয়, তবে তা মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তবে গত দুই সপ্তাহ ধরে কারেন্স মার্কেটে বেশ স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। তাই আজ মার্কেটে শক্তিশালী মুভমেন্ট সৃষ্টির সম্ভাবনা বেশ কম।
শুক্রবার উল্লেখযোগ্য কোনো ফান্ডামেন্টাল ইভেন্ট নির্ধারিত নেই। এই মুহূর্তে ফেডারেল রিজার্ভের প্রতিনিধিদের মন্তব্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে ট্রেডারদের ধারণা থাকা প্রয়োজন। সম্প্রতি মার্কিন শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল বেশ হতাশাজনক ছিল; টানা দ্বিতীয়বারের মতো মূল্যস্ফীতি কমেছে, তবে তা এখনও বেশ উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। একদিকে মূল সুদের হার বাড়ানো প্রয়োজন; অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি যখন কমছে এবং শ্রমবাজারে নতুন করে সংকট দেখা দিচ্ছে, তখন সুদের হার বাড়ানোর যৌক্তিকতা কী? ফেডারেল রিজার্ভের পক্ষ থেকে যত বেশি ডোভিশ বা নমনীয় অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত পাওয়া যাবে, মার্কিন ডলারের ততটাই দরপতন হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। আমাদের ধারণা, সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ মুদ্রানীতি কঠোর করবে না।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও সন্তোষজনক নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নিয়মিত পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে; বর্তমানে কোনো আলোচনা হচ্ছে না, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে, ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের ওপর অবরোধ বজায় রেখেছে এবং ওয়াশিংটন যদি আবারও চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে তবে বাব-এল-মান্দেব প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান। ট্রেডাররা ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের উপর আস্থা রাখতে পারছে না এবং ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে ওমানের সাথে আলোচনা করতেই বেশি আগ্রহী। তেহরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলীর একটি তালিকা ওয়াশিংটনের কাছে পেশ করেছে, তবে ট্রাম্প সেগুলো মেনে নেবেন সেই সম্ভাবনা কম।
চলতি সপ্তাহের শেষদিকের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের বেশ মন্থর ট্রেডিং দেখা যেতে পারে, কারণ এমনকি চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদনও মার্কেটে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। আজ ইউরো 1.1527-1.1531 এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে ট্রেডিং করা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।