আরও দেখুন
বুধবার প্রত্যাশা অনুযায়ী GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের কোনো উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট দেখা যায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বাড়তে শুরু করে, কারণ এই প্রতিবেদনের ফলাফল অনুযায়ী ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার সম্ভাবনা কমে গিয়েছিল। তবে, মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেতে শুরু করে—যার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ব্যাখ্যা করা বেশ কঠিন। দিনের শেষে মার্কিন ডলারের দর সামান্য বৃদ্ধি পেলেও, একে প্রবণতার পরিবর্তন বা নিম্নমুখী প্রবণতা শুরুর ইঙ্গিত বলা যায় না। অবশ্য যে পর্যায়ে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য সহজেই বৃদ্ধি পাওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তা ঘটেনি। গত দুই সপ্তাহ ধরে এই পেয়ারের মূল্য খুব ধীরগতিতে বাড়ছে, তবে অ্যাসেন্ডিং চ্যানেলের বিন্যাস অনুযায়ী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এখনও বজায় রয়েছে। এই পেয়ারের মূল্য এই চ্যানেলের নিচে কনসলিডেট করলে তা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সমাপ্তি নির্দেশ করবে, কিন্তু ঠিক কী কারণে ভবিষ্যতে মার্কিন ডলারের দর আরও বাড়তে পারে, তা অস্পষ্ট। বর্তমানে মার্কিন ডলার ভূ-রাজনৈতিক, মৌলিক বা সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে কোনো সহায়তা পাচ্ছে না। অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য এখন প্রতিনিয়ত বা প্রতিদিনই বাড়তে থাকবে; তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন ডলারের ক্ষেত্রে কেবল কারেকশনেরই প্রত্যাশা করা যেতে পারে।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্টবুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। গতকাল নতুন ট্রেডাররা ট্রেডে এন্ট্রি করার মতো কোনো সুযোগ পায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 রেঞ্জের কাছাকাছি অবস্থান করছে, তাই দিনের মধ্যে এক বা একাধিক সিগন্যাল গঠিত হতে পারে। তবে, আজ আবারও মার্কেটে স্বল্পমাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। আমাদের মতে, স্থানীয় কারণগুলো পাউন্ডকে সহায়তা না করলেও এটির মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে গত মাস থেকেই এই পেয়ারের মূল্য কনসলিডেশন চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে আপার বাউন্ডারির দিকে উঠতে শুরু করেছে এবং এই মুভমেন্ট এখনও সম্পন্ন হয়নি। মার্কেটে সেপ্টেম্বরে ফেড কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা বিলীন হতে শুরু করেছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল দুর্বল ছিল। শুধু মাত্র ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে অ্যাসেন্ডিং চ্যানেলের নিচে এই পেয়ারের মূল্য কনসলিডেট করলে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456–1.3476 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3380–1.3386-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে, আজ যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3587–1.3598-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপি এবং জুন মাসের শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে 'প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স' (PPI) বা উৎপাদক মূল্য সূচক সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। আমাদের ধারণা, এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফলের প্রভাবে মার্কেটে দুর্বল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।