আরও দেখুন
সোমবার কয়েকটি স্বল্প গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন ছাড়া তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা নেই। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রেডাররা শুধুমাত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের প্রতিই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং তাও বাছাইকৃতভাবে। তাই আজ নিঃসন্দেহে মার্কেটে দুর্বল মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে। সারাদিন মার্কেটে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে এবং সম্ভবত ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের সামান্য কারেকশনের আরেকটি প্রচেষ্টা দেখা যেতে পারে।
সোমবারের গুরুত্বপূর্ণ ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ডের বক্তব্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, দুই সপ্তাহ আগে ইসিবির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল যেখানে গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু ট্রেডাররা সেই সিদ্ধান্তটিকে খুব একটা আমলে নেয়নি; বরং তারা ফেডারেল রিজার্ভের মূল সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রানীতি কঠোর করা হবে কি না তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে, কিন্তু অন্য সব বিষয়কে উপেক্ষা করে ট্রেডাররা এখন সেটারই প্রত্যাশা করছে।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো মূলত "শর্তসাপেক্ষে ইতিবাচক" পর্যায়ে রয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বিশেষ করে "পারমাণবিক ইস্যু," লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ—এসব বিষয় নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা বজায় আছে। তাত্ত্বিকভাবে, ট্রেডাররা হয়তো পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা করতে পারে; মার্কিন তবে ডলারের চাহিদা ধরে রাখার জন্য এটি কোনোভাবেই যথেষ্ট কারণ নয়। কারণ, তেহরান ও ওয়াশিংটন এখন শান্তি স্থাপনের পথেই রয়েছে এবং আলোচনা অব্যাহত আছে—যদিও সেই আলোচনা দ্রুত ও সহজ হবে বলে কেউ আশা করছে না।
চলতি সপ্তাহের প্রথম দিনের ট্রেডিংয়ে, উল্লেখযোগ্য দরপতনের পর উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের কারেকশন অব্যাহত থাকতে পারে এবং সারাদিন মার্কেটে মন্থর ট্রেডিং কার্যক্রম বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরো 1.1354-1.1363 এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3175-1.3180 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেডিং করা যেতে পারে। গত এক সপ্তাহ ধরে ট্রেডাররা অযৌক্তিকভাবে মার্কিন ডলার ক্রয় করে, যা বিক্রেতাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ফাঁদে পরিণত হতে পারে। আজ যেকোনো ট্রেড থেকে ২৫-৩০ পিপসের বেশি মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনা কম।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।