আরও দেখুন
বুধবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। আজ জার্মানিতে Ifo বিজনেস ক্লাইমেট ইনডেক্স প্রকাশিত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আবাসন বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। উভয় প্রতিবেদনকেই স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাই এগুলোর প্রভাবে মার্কেটে কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কম। উল্লেখ্য যে, পুরো সপ্তাহজুড়ে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে; তাই মার্কিন ডলারের এই ধরনের মুভমেন্টের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা ভিত্তির প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রানীতি নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের গৃহীত অবস্থানের কারণে উভয় প্রধান কারেন্সি পেয়ারের দরপতন অব্যাহত রয়েছে—এমনটা আমরা মনে করি না। মার্কিন ডলারের জন্য প্রতিকূল এমন সব বিষয়কেই ট্রেডাররা বর্তমানে উপেক্ষা করছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এটি মূলত 'মার্কেট-মেকারদের' ম্যানুপুলেশন বা কারসাজি।
বুধবারের উল্লেখযোগ্য ইভেন্ট হিসেবে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধি পিয়েরো সিপোলোন ও প্যাট্রিক মন্ট্যাগনার, ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের স্বাতী ধিংরা ও হিউ পিল এবং বুন্ডেসব্যাংকের প্রধান জোয়াকিম নাগেলের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে। তবে উল্লেখ্য যে, দুই সপ্তাহ আগে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে ইসিবি তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়িয়েছিল; অন্যদিকে, গত সপ্তাহে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড এবং ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাই, বেশ অল্প সময় অতিবাহিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধিদের বক্তব্য থেকে নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও "শর্তসাপেক্ষে ইতিবাচক" ও স্থিতিশীল রয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বিশেষ করে "পারমাণবিক কর্মসূচীর" কথা বলা যায়, যে ব্যাপারে চুক্তির বর্তমান খসড়ায় তেমন কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। ঠিক এই বিষয়টিই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটিয়েছিল এবং যেকোনো মুহূর্তে তা পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। সপ্তাহান্তে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং প্রাথমিক অগ্রগতিও অর্জিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, দেশটির অবরুদ্ধ সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে এবং ইরানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে একটি পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে। আপাতত, ইরান হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
চলতি সপ্তাহের তৃতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে, বড় ধরনের দরপতনের পর উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের হয়তো কিছুটা কারেকশন হতে পারে; তবে দরপতন অব্যাহত থাকলেও আমরা অবাক হবো না। ইউরো 1.1354-1.1363 এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3175-1.3180 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যেতে পারে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রেডাররা সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবেই মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে; এটি হয়তো বিক্রেতাদের জন্য মার্কেট মেকারদের পাতা কোনো ফাঁদ হতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।