empty
 
 
22.06.2026 06:44 AM
EUR/USD পেয়ারের সাপ্তাহিক পর্যালোচনা। পিএমআই এবং আইএফও সূচক, মার্কিন জিডিপি, কোর পিসিই সূচক, এবং আলোচনার গতিপথ

চলতি সপ্তাহে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিংয়ের পরিস্থিতি মূলত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দ্বারা নির্ধারিত হবে।ট্রেডাররা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার আলোচনার উপর দৃষ্টিপাত করবে, যা রবিবার সুইজারল্যান্ডে শুরু হতে চলেছে। এই পেয়ারের মূল্যের মুভমেন্ট মূলত মার্কিন-ইরান সংলাপের সূচনা এবং এতে অংশগ্রহণকারীদের প্রাথমিক বিবৃতির উপর নির্ভর করবে।

যদি আলোচনা প্রক্রিয়া সত্যিই শুরু হয়, তাহলে মার্কেটে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের প্রতি আগ্রহ বাড়বে, যা ইউরোর দর বৃদ্ধি ঘটাতে পারে। অন্যদিকে, যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা আবারও মার্কেটে ঝুঁকি গ্রহণ না করার প্রবণতার বৃদ্ধি দেখতে পাব, যার প্রধান সুবিধাভোগী হবে মার্কিন ডলার।

This image is no longer relevant

এই প্রেক্ষাপটে, প্রকাশিতব্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল গৌণ ও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, যা প্রধান মৌলিক উপাদানের প্রভাবকে হয় বাড়িয়ে দেবে অথবা কমিয়ে দেবে।

ভূ-রাজনীতি

বর্তমান পরিস্থিতি বেশ জটিল, অস্পষ্ট এবং অপ্রত্যাশিত। আগত সংবাদ প্রবাহ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে, যার ফলে ঘটনাপ্রবাহের সময়সীমা আক্ষরিক অর্থেই কয়েক দিন, এমনকি কখনও কখনও মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে।

যেমনটা জানা গেছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা চলাকালীন সময়ে ৬০ দিনের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল; তবে, দক্ষিণ লেবাননে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে উভয়পক্ষ মুখোমুখি আলোচনা শুরু করতে পারেনি। এছাড়াও, শনিবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর "লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জবাবে" হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করেছে।

তথাপি, আলোচনা "অব্যাহত" রয়েছে। রবিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা রবিবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং আলোচনার অগ্রগতি ও উভয় পক্ষের আপস করার সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে তা বেশ কয়েকদিন ধরে চলতে পারে। ভ্যান্স বলেছেন যে, আলোচনা চলাকালীন সময়ে তার অগ্রাধিকার হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচীর ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন এবং লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা। উল্লেখ্য যে, ইরান পূর্বে দাবি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র যেন ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণ করে (হিজবুল্লাহর সাথে সংঘাত এবং লেবাননের ভূখণ্ডে হামলার প্রেক্ষাপটে), এবং তা না হলে দেশটি আলোচনা থেকে সরে আসার হুমকি দিয়েছিল। পরিস্থিতির জটিলতা এই কারণে উদ্ভূত হয়েছে যে, ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে যুক্ত নেই, যার ফলে তাকে দেশটি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ পেয়েছে।

উভয়পক্ষ এই জটিল জট খুলতে এবং কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে কিনা, তা এখনও অমীমাংসিত প্রশ্ন। এদিকে, এই প্রশ্নের উত্তরই মূলত EUR/USD পেয়ারের মূল্যের ভবিষ্যৎ মুভমেন্ট নির্ধারণ করবে। আলোচনা প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারীদের যেকোনো বিবৃতি বা মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা নতুন যেকোনো খবর তাৎক্ষণিকভাবে কারেন্সি মার্কেটের সামগ্রিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে পারে এবং বর্তমান প্রত্যাশাগুলোর তীব্র পুনর্মূল্যায়ন ঘটাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা এবং নিরাপদ বিনিয়োগের খ্যাতিসম্পন্ন অ্যাসেটের মূল্যের মুভমেন্ট নির্ধারণ করবে, যার প্রভাব মার্কিন ডলার এবং ইউরোর উপর পড়তে পারে।

সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন

পূর্বে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, এ সপ্তাহে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল মার্কেটে গৌণ ভূমিকা পালন করবে; তবে, এগুলোর ফলাফল মার্কেটে মুভমেন্ট সৃষ্টির জন্য এক ধরনের 'অনুঘটক' হিসেবে কাজ করতে পারে, যা বাড়তি মোমেন্টাম প্রদান করে এবং প্রাথমিক সামষ্টিক অনুঘটকের প্রভাবকে নিশ্চিত বা দুর্বল করে।

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, পিএমআই সূচক প্রকাশিত হবে। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইউরোপীয় পিএমআই সূচকগুলোতে সামান্য কিন্তু বৃদ্ধি দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষত, জার্মানির ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই 50.1 থেকে বেড়ে 50.2 হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। EUR/USD পেয়ারের ক্রেতাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ যাতে সূচকটি সম্প্রসারণ প্রদর্শন করে, অর্থাৎ 50-এর উপরে থাকে। জার্মানির সার্ভিসেস পিএমআই সূচকের ফলাফল মে মাসের 48.1 থেকে বেড়ে জুনে 49 পয়েন্টে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সামগ্রিক ইউরোপীয় পিএমআই সূচকগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা প্রত্যাশিত: ম্যানুফ্যাকচারিং খাত 51.6 থেকে বেড়ে 51.8 হবে বলে আশা করা হচ্ছে, অন্যদিকে সার্ভিসেস খাত 47.7 থেকে বেড়ে 48.6 হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

পরদিন, ২৪শে জুন, জার্মানির জুন মাসের আইএফও সূচকগুলো প্রকাশিত হবে। এই সূচকগুলোরও ইতিবাচক ফলাফলের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিজনেস ক্লাইমেট সূচকটি বেড়ে 85.6 হবে বলে আশা করা হচ্ছে (মে মাসের 84.9 থেকে), এবং ইকোনোমিক এক্সপেকটেশন সূচকটি 83.8 থেকে বেড়ে 85.0 হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পিএমআই এবং আইএফও সূচকের ফলাফলের প্রভাবে ইউরোর মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে—তবে তা কেবল তখনই সম্ভব হবে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা ইতিবাচকভাবে অগ্রসর হয়।

মার্কিনডলারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনগুলো ২৫শে জুন, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হবে।

প্রথমে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের চূড়ান্ত জিডিপি পূর্বাভাস প্রকাশিত হবে। মনে রাখবেন যে মার্কিন জিডিপির প্রাথমিক অনুমান (মার্কিন ডলারের ক্রেতাদের জন্য) একটি অপ্রীতিকর বিস্ময় নিয়ে এসেছিল: 2.0%-এর প্রাথমিক অনুমানের পর, দ্বিতীয় অনুমানে মার্কিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বার্ষিক ভিত্তিতে 1.6%-এ সংশোধন করা হয়েছিল। যদিও এই পরিসংখ্যানটি গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের ফলাফল 0.5%-এর তুলনায় বৃদ্ধি প্রতিফলিত করে, তবে কর্পোরেট মজুদের হ্রাস এবং ভোক্তা চাহিদা কিছুটা হ্রাসের কারণে সূচকটির সামগ্রিক ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল। বেশিরভাগ বিশ্লেষক বিশ্বাস করেন যে চূড়ান্ত অনুমানটি 1.6%-এর দ্বিতীয় অনুমানের আশেপাশেই থাকবে। যদি পূর্বাভাসের বিপরীতে চূড়ান্ত অনুমানটিও সংশোধন করা হয়, তবে প্রতিবেদনটির এইরূপ ফলাফল মার্কিন ডলারের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে এবং সেই প্রভাব মূলত সংশোধনের মাত্রার উপর নির্ভর করবে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিতব্য দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন হলো কোর পিসিই ইনডেক্স। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি নির্ধারণে অন্যতম প্রধান সূচক। এই সূচকটি টানা দ্বিতীয় মাসের মতো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে এবং এপ্রিলে তা বার্ষিক ভিত্তিতে 3.3%-এ পৌঁছেছে। যদিও মাসিক বৃদ্ধি কমে 0.2%-এ দাঁড়িয়েছে, বার্ষিক সূচকটি এখনও ফেডারেল রিজার্ভের 2.0%-এর লক্ষ্যমাত্রাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে যথেষ্ট হকিশ বা কঠোর নীতি বজায় রাখতে বাধ্য করছে (আপডেটকৃত ডট প্লট অনুযায়ী, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরের দ্বিতীয়ার্ধে সুদের হার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে)। এছাড়াও, জুন মাসের বৈঠকের পর ফেড পিসিই সূচকের বৃদ্ধির পূর্বাভাস মার্চ মাসের প্রত্যাশিত 2.7% থেকে বাড়িয়ে 3.6% করেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, মে মাসে কোর পিসিই সূচক এপ্রিল মাসের স্তরেই (3.3%) থাকবে। এই স্তরের উপরে যেকোনো পরিবর্তন মুদ্রাস্ফীতির প্রবণতার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে এবং ফলস্বরূপ মার্কিন ডলারকে বাড়তি সহায়তা পাবে।

তবে, উপরে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিংয়ের মুভমেন্ট প্রাথমিকভাবে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দ্বারা নির্ধারিত হবে। যদি পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে উত্তেজনা হ্রাসের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তাহলে EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.15-এর দিকে ফিরে আসতে পারে এবং 1.1580-এর রেজিস্ট্যান্স লেভেলের (বলিঙ্গার ব্যান্ডের মিডিয়ান লাইন, যা D1 চার্টে কিজুন-সেন লাইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ) উপরে স্থিতিশীল হতে পারে। অন্যথায়, এই পেয়ারের মূল্য 1.14-এর দিকে ফিরে আসতে পারে এবং 1.1410-এর সাপোর্ট লেভেল (চার-ঘণ্টার চার্টে বলিঙ্গার ব্যান্ডের লোয়ার লাইন) ব্রেক করে নিম্নমুখী হওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.