আরও দেখুন
শুক্রবার GBP/USD পেয়ারের মূল্য প্রায় স্থবির ছিল, এবং এমনকি যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদনও মার্কেটে সক্রিয়ভাবে মুভমেন্ট ঘটাতে পারেনি। তবে এই বিষয়টি আশ্চর্যজনক নয়, কারণ সপ্তাহের শুরুতে ট্রেডাররা ব্রিটেনের আরও গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব সম্পর্কিত প্রতিবেদনগুলোর দিকেও প্রায় কোনো মনোযোগই দেয়নি। এই দুইটি প্রতিবেদনের ফলাফল ব্রিটিশ পাউন্ডের দরপতন ঘটাতে পারত, কিন্তু সপ্তাহের অধিকাংশ সময় আগের সপ্তাহের দরপতনের পর পুনরুদ্ধার পরিলক্ষিত হয়েছে—প্রতিবার মার্কেটে মুদ্রাস্ফীতির তীব্র ধীরগতি এবং ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড কর্তৃক মুদ্রানীতি কঠোর করার সম্ভাবনার হ্রাসের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফলে আমরা পুরো সপ্তাহ জুড়ে এই পেয়ারের মূল্যের কারেকশন প্রত্যক্ষ করেছি, যেখানে উৎসাহজনক ভূ-রাজনৈতিক খবরের প্রভাবে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বেড়েছে। এ সপ্তাহেও ট্রেডাররা আগত ভূ-রাজনৈতিক তথ্য সতর্কতার সাথে বিশ্লেষণ করবে। সপ্তাহান্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন, তবে এখন এই তথ্য নিশ্চিত করতে হবে এবং চুক্তিতে কেবল সম্মতিই নয়—সংঘাতে অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলোর দ্বারা এতে স্বাক্ষর করাও প্রয়োজন।
শুক্রবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল—এই পেয়ারের মূল্য 1.3456 থেকে বাউন্স করলেও দিনের শেষে কোনো উল্লেখযোগ্য দরপতন দেখা যায়নি। সোমবার রাতে এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেট করে, ফলে একটি বাই সিগন্যালের গঠনের সাথে নতুন সপ্তাহটি শুরু হয়। তবুও পাউন্ডের আরও মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা মূলত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, তবে গত সপ্তাহে ভূ-রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তিত হওয়ায় ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য এখন বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু না হলে মার্কিন ডলারের দর ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মতো বৃদ্ধি পাওয়ার প্রত্যাশা করা কঠিন। পৃথক ঘটনার ভিত্তিতে এখনও মার্কিন ডলারের দর কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে আমরা মনে করি না যে মার্কেটে নতুন করে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা সৃষ্টি হবে।
সোমবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়ার নিচে পুনরায় কনসোলিডেট করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3380-1.3386 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেট করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ রয়েছে, যেখানে মূল্যের 1.3587-1.3598 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। আজ যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে তেমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের কথা নেই এবং সেইসাথে কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, তাই মার্কেটের ট্রেডাররা শুধুমাত্র ভূ-রাজনৈতিক ও টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপটের বিশ্লেষণের দিকে বেশি মনোযোগ দেবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।