আরও দেখুন
গতকাল মার্কিন স্টক সূচকগুলোতে আবারও নিম্নমুখী প্রবণতার সাথে লেনদেন শেষ হয়েছে। S&P 500 সূচক 0.56% হ্রাস পেয়েছে, নাসডাক 100 সূচক 0.26% হ্রাস পেয়েছে এবং ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক 1.61% হ্রাস পেয়েছে।
আজ, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে, ইক্যুইটিগুলো নিম্নমুখী থেকে কিছুটা উর্ধ্বমুখী হয়েছে—এর পেছনে মূলত মার্কিন ডলার ও তেলের দর কিছুটা কমার প্রভাব রয়েছে। স্বর্ণ ও রূপার মূল্য আরও বাড়ছে। ইউরোপীয় স্টক সূচকের ফিউচার্স প্রায় 1% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মার্কিন স্টক সূচকের ফিউচারগুলো বেশ ভালো পুনরুদ্ধার প্রদর্শন করেছিল। এশিয়ার স্টক মার্কেটগুলো পূর্বের ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠে প্রায় 0.1% বেড়েছে, যেখানে চীনের টেক সেক্টরের স্টকগুলো দর বৃদ্ধির দিক থেকে শীর্ষস্থানীয় ছিল।
ওয়াশিংটন জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চালালেও তেল মূল্য কেবল সামান্যই কমেছে। বিশ্ব জ্বালানি খাতের পরিস্থিতি এখনও ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত তেলের সরবরাহে বিঘ্নতার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে—দেশটি কৌশলগত রিজার্ভ থেকে অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়তে চাচ্ছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করছে, প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোকে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে—তবে প্রতিটি বিকল্পেরই কিছু ঝুঁকি ও সুবিধা রয়েছে। পরিস্থিতির জটিলতা বিবেচনা করে জ্বালানি মূল্য স্থিতিশীল করার কোনো সহজ সমাধান নেই।
গোল্ডম্যান শ্যাক্সের গ্যাস বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীতে পরিবহন কয়েক সপ্তাহ বিঘ্নিত হলে ব্রেন্ট ক্রুডের দর $100/ব্যারেল ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিনকিন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের মতে, স্টক মার্কেটে উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত থাকলেও বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না—সংস্থাটি এরকমই অনুমান করছে।
শুক্রবার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলেও, এশিয়ার ইক্যুইটি মার্কেটগুলোতে ২০২০ সালের মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত চলতি সপ্তাহেই সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক ফলাফল পরিলক্ষিত হচ্ছে—ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় 6.3% পতন ঘটেছে। ফান্ডগুলো চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে এই অঞ্চল থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলারের ভূমিকা বাড়ছে এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর থেকে মার্কিন ডলারের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচকভাবে সপ্তাহ শেষ হতে যাচ্ছে।
আজ গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা জানুয়ারিতে শক্তিশালী বৃদ্ধির পর নিয়োগে মন্থরতা প্রদর্শন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বেকারত্ব হার অপরিবর্তিত থাকার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। কর্মসংস্থান শক্তিশালীভাবে বৃদ্ধি পেলে তা প্রত্যাশার বিপরীতে নেতিবাচক হবে, বিশেষ করে তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির প্রত্যাশা বেড়ে গেলে। পে-রোল প্রতিবেদনের ফলাফল নিম্নমুখী হলে তা ফেড কর্তৃক আর্থিক নীতিমালা নমনীয়করণের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে।
S&P 500‑এর টেকনিক্যাল বিশ্লেষণের অনুযায়ী, ক্রেতাদের স্বল্পমেয়াদে সূচকটির মূল্যকে $6,854-এর নিকটতম রেজিস্টেন্স লেভেল অতিক্রম করাতে হবে; এতে করে নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়ে সূচকটির মূল্যের $6,871-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। সূচকটির দর $6,882-এর উপরে উঠলে বুলিশ প্রবণতা আরও শক্তিশালী হবে। নিম্নমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে, সূচকটির দর প্রায় $6,837 লেভেলে থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। সেই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে ইন্সট্রুমেন্টটির দর দ্রুত $6,819-এ নামতে পারে এবং $6,801-এর দিকে দরপতনের সম্ভাবনাও উন্মুক্ত হতে পারে।